supermom-logo
Go to Home
প্রেগন্যান্সি টেস্ট: সঠিক সময়, নির্ভুলতা এবং ফলাফল বোঝার উপায়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট: সঠিক সময়, নির্ভুলতা এবং ফলাফল বোঝার উপায়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট বা গর্ভাবস্থা পরীক্ষা হলো একটি সহজ পদ্ধতি যেখানে শরীরে ‘হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন’ (hCG) হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা হয়। জরায়ুতে নিষিক্ত ডিম্বাণু স্থাপিত হওয়ার পর শরীর এই হরমোনটি তৈরি করতে শুরু করে। গর্ভাবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং সময়মতো প্রসবপূর্ব যত্ন শুরু করার জন্য ঘরে বা ক্লিনিকে এই পরীক্ষাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। মায়েদের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং নিরাপদ গর্ভাবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। [১][২]

অধিকাংশ প্রেগন্যান্সি টেস্ট প্রস্রাবের মাধ্যমে করা হয় যা ঘরে বসেই সম্ভব। অন্যদিকে, রক্ত পরীক্ষা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে করা হয়, যার মাধ্যমে আরও আগে এবং সুনির্দিষ্টভাবে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করা যায়। এই পরীক্ষাগুলো কখন এবং কীভাবে করতে হয় তা জানা থাকলে ফলাফলের নির্ভুলতা বাড়ে এবং বিভ্রান্তি দূর হয়। [৩]

1.png 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কীভাবে কাজ করে

প্রেগন্যান্সি টেস্ট মূলত শরীরে hCG হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করে। নিষিক্ত ডিম্বাণু যখন জরায়ুর দেওয়ালে সংযুক্ত হয়, তখন থেকেই এই হরমোনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে প্রতি ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় এই hCG-এর মাত্রা দ্বিগুণ হতে থাকে। এই হরমোনটি প্রথমে রক্তে এবং এর কিছুদিন পর প্রস্রাবে ধরা পড়ে। এই কারণেই ঘরে বসে করা ইউরিন টেস্টের তুলনায় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা আরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। [২][৩]

প্রস্রাবের মাধ্যমে করা প্রেগন্যান্সি টেস্টে বিশেষ ধরণের অ্যান্টিবডি ব্যবহৃত হয় যা hCG হরমোনের সংস্পর্শে এলে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং টেস্ট কিটে একটি দৃশ্যমান রেখা বা চিহ্ন তৈরি করে। অন্যদিকে, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে hCG হরমোনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ পরিমাপ করা যায়, যা গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং নির্ভরযোগ্য ফলাফল দেয়। [৩][৪]

প্রেগন্যান্সি টেস্টের প্রকারভেদ 

ঘরে বসে ইউরিন প্রেগন্যান্সি টেস্ট

এটি গর্ভাবস্থা পরীক্ষার সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি, যা খুব সহজেই ফার্মেসিতে পাওয়া যায় এবং ঘরেই পরীক্ষা করা সম্ভব। এই টেস্টের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যায়। সাধারণত মাসিকের তারিখ পার হয়ে যাওয়ার পর এই পরীক্ষাটি করলে সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়।

দিনের প্রথম প্রস্রাব ব্যবহার করে এই টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে hCG হরমোনের ঘনত্ব বেশি থাকে, যা গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে পরীক্ষা সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া কিটের নির্দেশনাবলি সতর্কতার সাথে অনুসরণ করলে আরও নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়া সম্ভব। [৩][৪]

ব্লাড প্রেগন্যান্সি টেস্ট বা রক্ত পরীক্ষা

এই পরীক্ষাটি ক্লিনিক বা হাসপাতালে করা হয়, যা রক্তে hCG (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) হরমোনের সুনির্দিষ্ট মাত্রা পরিমাপ করে। এটি প্রস্রাব পরীক্ষার তুলনায় অনেক আগেই গর্ভাবস্থা শনাক্ত করতে পারে। সাধারণত দ্রুত নিশ্চিত হওয়া বা উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে এই পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। রক্ত পরীক্ষা অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং এটি চিকিৎসকদের গর্ভাবস্থার প্রাথমিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে অথবা ঘরে করা টেস্টের অস্পষ্ট ফলাফল যাচাই করতে সহায়তা করে [২][৩]।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময়

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো মাসিক বা পিরিয়ড মিস হওয়ার পর। পিরিয়ডের নির্ধারিত তারিখ পার হওয়ার আগে পরীক্ষা করলে অনেক সময় ফলাফল 'ফলস-নেগেটিভ' (গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও নেগেটিভ) আসতে পারে; কারণ তখন শরীরে hCG হরমোনের মাত্রা শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত থাকে না। যদি বমি বমি ভাব, স্তনে ব্যথা বা স্পর্শকাতরতা, ক্লান্তি অথবা বারবার প্রস্রাবের বেগের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে পিরিয়ড মিস হওয়ার কয়েক দিন পর পরীক্ষা করলে সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়। [৩][৫]

প্রথমবার পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসার পরেও যদি গর্ভাবস্থার লক্ষণ থাকে বা সন্দেহ দূর না হয়, তবে চিকিৎসকরা সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। [৬]

প্রেগন্যান্সি টেস্টের নির্ভুলতা

মাসিক বা পিরিয়ড মিস হওয়ার পর সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ঘরে বসে করা প্রেগন্যান্সি টেস্টগুলো সাধারণত ৯৭-৯৯% পর্যন্ত নির্ভুল ফলাফল দেয়। তবে এই নির্ভুলতা মূলত পরীক্ষার সময়, প্রস্রাবের ঘনত্ব এবং কিট ব্যবহারের সঠিক নিয়মের ওপর নির্ভর করে। রক্ত পরীক্ষা প্রস্রাব পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল, যা আরও আগে এবং অধিক নির্ভরযোগ্যভাবে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করতে পারে। [৩][৫]

ভুল পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ টেস্ট কিট ব্যবহার করা অথবা পাতলা প্রস্রাব (অতিরিক্ত পানি পানের কারণে) ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সঠিক ফলাফল পেতে কিটে দেওয়া নির্দেশনাবলি সতর্কতার সাথে অনুসরণ করা জরুরি। [৪]

ভুল ফলাফল আসার কারণসমূহ

ফলস নেগেটিভ 

ফলস নেগেটিভ তখন ঘটে, যখন গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ বা ঋণাত্মক আসে। সাধারণত পিরিয়ড মিস হওয়ার খুব দ্রুত বা সময়ের আগেই পরীক্ষা করলে এমনটি হতে পারে, কারণ তখন শরীরে hCG (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) হরমোন শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত মাত্রায় তৈরি হয় না। এছাড়া পরীক্ষার আগে প্রচুর পরিমাণে তরল বা পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয়ে হরমোনের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, যা ভুল ফলাফল আসার সম্ভাবনা তৈরি করে। আবার যদি টেস্ট কিটটি সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করা না হয় অথবা গর্ভধারণের খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়, তবে হরমোনের মাত্রা পরিমাপযোগ্য পর্যায়ে না থাকার কারণে ফলাফল নির্ভুল আসে না। [৩]

ফলস পজিটিভ 

ফলস পজিটিভ হওয়ার ঘটনা সাধারণত খুব একটা ঘটে না; তবে কিছু ক্ষেত্রে গর্ভবতী না হওয়া সত্ত্বেও প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। এটি মূলত নির্দিষ্ট কিছু ফার্টিলিটি বা প্রজনন সংক্রান্ত ওষুধের কারণে হতে পারে যেগুলোতে hCG হরমোন থাকে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে গর্ভপাত হয়ে থাকলে শরীরে তখনও এই হরমোনটির উপস্থিতি থাকতে পারে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলে। আবার বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থার কারণেও শরীরে hCG হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে এবং ভুল ফলাফল দেখাতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করতে এবং অন্য কোনো অন্তর্নিহিত কারণ আছে কি না তা যাচাই করতে পুনরায় পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। [২] 

প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহারের নিয়ম 

সঠিক ফলাফলের জন্য প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহারের সময় নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

হাত ধুয়ে নিন: পরীক্ষা শুরু করার আগে সাবান দিয়ে হাত খুব ভালোভাবে ধুয়ে ও শুকিয়ে নিন।

কিটটি খুলুন: প্যাকেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী কিটটি বের করুন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন টেস্ট স্ট্রিপের ওপরের অংশে (যেখানে হরমোন শনাক্ত হয়) হাত না লাগে।

প্রস্রাব সংগ্রহ: একটি পরিষ্কার কাপে সামান্য প্রস্রাব সংগ্রহ করুন অথবা কিটের ধরণ অনুযায়ী সরাসরি স্ট্রিপের ওপর প্রস্রাব (Midstream method) করুন।

ড্রপ বা ডিপ পদ্ধতি: নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব ফেলুন অথবা স্ট্রিপটি প্রস্রাবে ডুবিয়ে রাখুন।

অপেক্ষা করুন: কিটের ওপর ফলাফল দৃশ্যমান হওয়ার জন্য ৩ থেকে ৫ মিনিট ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।

ফলাফল দেখুন: নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর কিটে আসা রেখা বা চিহ্ন দেখে ফলাফল নিশ্চিত হোন।

ফলাফল পড়ার নিয়ম 

টেস্ট করার পর কিটে আসা রেখাগুলো দেখে আপনি সহজেই ফলাফল বুঝতে পারবেন:

২টি রেখা = পজিটিভ (গর্ভবতী): যদি কিটে দুটি স্পষ্ট রেখা দেখা যায়, তবে এর অর্থ আপনি গর্ভবতী।

১টি রেখা = নেগেটিভ (গর্ভবতী নন): যদি কেবল একটি রেখা দেখা যায়, তবে তার অর্থ ফলাফল নেগেটিভ বা আপনি গর্ভবতী নন।

কোনো রেখা নেই / অস্পষ্ট = অসফল পরীক্ষা (Invalid): যদি কিটে কোনো রেখাই না আসে অথবা ফলাফল খুব অস্পষ্ট হয়, তবে বুঝতে হবে টেস্টটি সফল হয়নি। সেক্ষেত্রে নতুন একটি কিট দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: দ্বিতীয় রেখাটি যদি খুব আবছা বা হালকাও হয়, তবে সাধারণত সেটি গর্ভাবস্থাকেই নির্দেশ করে। পরবর্তী করণীয় এবং গর্ভাবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

Preg KIT.png 

চিকিৎসকের মাধ্যমে গর্ভাবস্থা নিশ্চিতকরণ

ঘরে বসে করা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসার পর, চিকিৎসকরা সাধারণত রক্ত পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করেন। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেই এই নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি প্রয়োজনীয় প্রসবপূর্ব ভিটামিন শুরু করতে, জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে এবং প্রসবপূর্ব যত্নের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্বাস্থ্য ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো গর্ভাবস্থার শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং নাম নিবন্ধনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। [১][৬]

প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফলে ভিন্নতা: মায়েদের জন্য কিছু তথ্য

প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল সব সময় প্রথমবারেই চূড়ান্ত বা নিখুঁত নাও হতে পারে। অনেক সময় পিরিয়ড মিস হওয়া সত্ত্বেও ফলাফল অস্পষ্ট আসা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়া, মন খারাপ করা বা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরীক্ষার 'সময়' একটি বড় ভূমিকা পালন করে। যদি গর্ভাবস্থার খুব শুরুর দিকে পরীক্ষা করা হয়, তবে শরীরে গর্ভাবস্থার হরমোন (hCG)-এর মাত্রা শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত থাকে না, যার ফলে ফলাফল 'নেগেটিভ' আসতে পারে।

এটি বোঝাও জরুরি যে, অনিয়মিত মাসিক চক্র, মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা অথবা পাতলা প্রস্রাবের মতো বিষয়গুলো পরীক্ষার নির্ভুলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এসব কারণে একটি মাত্র পরীক্ষার ফলাফলকে কখনোই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা উচিত নয়। চিকিৎসকরা সাধারণত অধিকতর নির্ভরযোগ্য ফলাফলের জন্য ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর পুনরায় পরীক্ষা করার অথবা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল (তা পজিটিভ হোক বা নেগেটিভ) কখনোই একজন নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, প্রজনন ক্ষমতা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। হরমোনের পরিবর্তনগুলো ধরা পড়ার জন্য শরীরকে কেবল কিছুটা সময় দিতে হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরা এবং শান্ত থাকা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং সঠিক চিকিৎসা মূল্যায়নের পথ প্রশস্ত করে।

তাছাড়া, প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফলে গরমিল হওয়া একটি স্বাভাবিক সম্ভাবনা, এটি কোনো ব্যর্থতা নয়। এটি কেবল শরীরের হরমোন পরিবর্তনের একটি প্রাকৃতিক জৈবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হলে পরীক্ষাটি পুনরায় করা অথবা একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ; যা আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মানসিক প্রশান্তি দেবে।

মনে রাখুন 

সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গর্ভাবস্থা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য প্রেগন্যান্সি টেস্ট একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং সহজলভ্য পদ্ধতি। পরীক্ষার সঠিক সময়, ব্যবহারবিধি এবং এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা থাকা নির্ভুল ফলাফলের জন্য অপরিহার্য। ঘরে বসে করা টেস্টগুলো যেমন সুবিধাজনক, তেমনি রক্ত পরীক্ষা অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং দ্রুত গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর। সব ক্ষেত্রেই, ফলাফল পজিটিভ আসার পর নিরাপদ গর্ভাবস্থা এবং সঠিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ 

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কতটা নির্ভুল বা সঠিক তথ্য দেয়?

সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে প্রেগন্যান্সি টেস্টগুলো সাধারণত অত্যন্ত নির্ভুল ফলাফল দেয়, বিশেষ করে মাসিক বা পিরিয়ড মিস হওয়ার পর। ঘরে বসে করা ইউরিন টেস্টগুলো প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত সঠিক হয়, কারণ এগুলো প্রস্রাবে থাকা hCG হরমোন শনাক্ত করতে পারে। রক্ত পরীক্ষা আরও বেশি সংবেদনশীল এবং এটি প্রস্রাব পরীক্ষার তুলনায় আরও দ্রুত গর্ভাবস্থা শনাক্ত করতে সক্ষম।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কোনটি?

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা সময় হলো পিরিয়ড মিস হওয়ার পর, কারণ তখন শরীরে hCG হরমোনের মাত্রা শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট থাকে। পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই খুব দ্রুত পরীক্ষা করলে ফলাফল 'নেগেটিভ' আসতে পারে, এমনকি আপনি গর্ভবতী হলেও। সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য দিনের প্রথম প্রস্রাব ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পজিটিভ বা নেগেটিভ ফলাফলের অর্থ কী?

একটি 'পজিটিভ' ফলাফলের অর্থ হলো শরীরে hCG হরমোন পাওয়া গেছে, যা গর্ভাবস্থার জোরালো সংকেত দেয়। 'নেগেটিভ' ফলাফলের অর্থ সাধারণত শরীরে কোনো hCG হরমোন পাওয়া যায়নি; তবে খুব দ্রুত পরীক্ষা করার ফলেও এমনটি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিটে একটি আবছা বা হালকা রেখাও প্রাথমিক গর্ভাবস্থাকে নির্দেশ করতে পারে।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কি ভুল ফলাফল দিতে পারে?

হ্যাঁ, প্রেগন্যান্সি টেস্ট মাঝে মাঝে ভুল ফলাফল দিতে পারে, যদিও এটি খুব একটা ঘটে না। গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও ফলাফল 'নেগেটিভ' আসার ঘটনাটি বেশি দেখা যায়, যা সাধারণত সময়ের আগে পরীক্ষা করলে বা পাতলা প্রস্রাবের কারণে ঘটে থাকে। অন্যদিকে, গর্ভবতী না হয়েও 'পজিটিভ' ফলাফল আসা খুবই বিরল, তবে প্রজনন সংক্রান্ত বিশেষ কিছু ওষুধ বা সাম্প্রতিক গর্ভপাতের কারণে এমনটি হতে পারে।

তথ্য সুত্র need to know icon

  1. American College of Obstetricians and Gynecologists. “Routine Tests During Pregnancy.” ACOG, https://www.acog.org/womens-health/faqs/routine-tests-during-pregnancy
  2. Centers for Disease Control and Prevention. "Pregnancy and Reproductive Health." CDC, https://www.cdc.gov/reproductivehealth/   
  3. Mayo Clinic Staff. “Home Pregnancy Tests: Can You Trust the Results?” Mayo Clinic,
    https://www.mayoclinic.org/healthy-lifestyle/getting-pregnant/in-depth/home-pregnancy-tests/art-20047940
  4. National Health Service. "Pregnancy Test." NHS, https://www.nhs.uk/pregnancy/trying-for-a-baby/doing-a-pregnancy-test/
  5. Cleveland Clinic. “Pregnancy Tests: When To Take, Types & Accuracy.” Cleveland Clinic,
     https://my.clevelandclinic.org/health/diagnostics/9703-pregnancy-tests
  6. World Health Organization. WHO Recommendations on Antenatal Care for a Positive Pregnancy Experience. World Health Organization, 2016, https://www.wh o.int/publications/i/item/9789241549912