supermom-logo
Go to Home
গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া: কারণ, প্রতিকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালাপোড়া: কারণ, প্রতিকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা

হার্টবার্ন বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলো বুকে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি, যা পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে উঠে আসার ফলে ঘটে। গর্ভাবস্থায় এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি উপসর্গ এবং প্রায় ৪৫-৮০% নারীর ক্ষেত্রেই এটি ঘটে থাকে।[১,২] প্রথম ট্রাইমিস্টার থেকেই এ সমস্যাটি দেখা দিতে পারে, তবে শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমিস্টারে এর উপসর্গগুলো আরো তীব্র হয়।[৩] অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুকে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি খুবই মৃদু থাকে এবং প্রসবের পর স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়, তবে এ বিষয়টি তীব্র হলে মায়ের ঘুম, খাবার খাওয়া ও সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব পড়তে পারে।[৪] গর্ভাবস্থায় এটি গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) হিসেবে বিবেচিত হয়, যার সাথে মায়ের শারীরিক ও হরমোনজনিত, দুই ধরনের কারণই যুক্ত থাকে।[৫]

 

গর্ভাবস্থায় কেন বুকে জ্বালাপোড়ার মত উপসর্গ দেখা যায়?

গর্ভাবস্থায় বুকে জ্বালাপোড়া বা হার্টবার্ন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি মায়ের শরীরে চলমান দুটি প্রধান প্রক্রিয়ার ফল: হরমোনের আধিপত্য ও জরায়ুর চাপ। মায়ের শরীর যখন নতুন প্রাণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে, তখন কিছু পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডকে খাদ্যনালীর দিকে ঠেলে দেয়। এই সময়ে যেসব কারণে বুকে জ্বালাপোড়া হতে পারে তা নিম্নরূপ:

প্রতিকারের কিছু ঘরোয়া উপায়

বুক জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণে আনার প্রথম ধাপ হলো জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কেবল কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই অস্বস্তি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।[৩] ঔষধের শরণাপন্ন হওয়ার আগে সাধারণত বিশেষজ্ঞরা এই প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন। নীচে প্রতিকারের কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায় তুলে ধরা হলো:

  • প্রতিদিন ৫-৬ বার অল্প অল্প করে খাওয়া পেটের অভ্যন্তরীন চাপ কমায় এবং প্রায় ৭০% ক্ষেত্রে শারীরিক অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।[৩] 
  • খাবার খাওয়ার পর অন্তত ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত শোওয়া উচিত নয় এবং ঘুমানোর সময় শরীরের চেয়ে মাথা ৬ ইঞ্চি উঁচু করে রাখা উচিত।[৪] 
  • ক্যালসিয়াম কার্বনেট জাতীয় অ্যান্টাসিড গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ হলেও ঔষধ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।[৫]
  • যেসকল খাবার অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করতে পারে সেগুলো পরিহার করতে হবে, যেমন: চকলেট, ক্যাফেইন, সাইট্রাস ফল ইত্যাদি।[৬] 
  •   শারীরিক অস্বস্তি তীব্র হলে প্রয়োজনে H2 ব্লকার (যেমন: Famotidine) অথবা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর, (PPI), যেমন: Omeprazole গ্রহণ করা যেতে পারে।[৭] তবে এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে জরুরি।
  • আরামদায়ক পোশাক পরলে ও বাম পাশ হয়ে ঘুমালে এ অস্বস্তি প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।[৮] 
  • প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে আদা বা কাঠবাদাম কিছু ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। যদিও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।[৯] 

গর্ভাবস্থায় বু্কে জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণে ঔষধ ব্যবহারের নির্দেশিকা

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও বুক জ্বালাপোড়ার অস্বস্তি তীব্র থাকলে  চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় ঔষধ গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, কারণ সব ধরনের ঔষধ মা ও অনাগত শিশুর জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। নিরাপদে ও কার্যকরভাবে ঔষধ ব্যবহারের জন্য নিম্নলিখিত নির্দেশিকাগুলো মেনে চলতে হবে:

সর্বপ্রথম চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা-
গর্ভাবস্থায় সব ধরনের ঔষধ মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। কিছু ঔষধ বিশেষভাবে এড়িয়ে চলতে হয়। তাই বুকে জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণে কোনো ঔষধ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করতে হবে।

নির্ধারিত ডোজ ঠিক রেখে ঔষধ গ্রহণ করা-
চিকিৎসক যে ডোজ নির্ধারণ করে দেবেন, ঠিক সেই অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করতে হবে। নিজের ইচ্ছায় ডোজ পরিবর্তন করে কম বা বেশি করা যাবে না। 

ঔষধ সেবনের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা-

ঔষধের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক এর সময়সূচি নির্ধারণ করেন। যেমন: বেশ কিছু ঔষধ খাবার খাওয়ার পর বা শোয়ার আগে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে ঔষধ গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। 

নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকা-

কিছু অ্যান্টাসিড গর্ভাবস্থায় নিরাপদ হলেও কিছু ঔষধে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম বা অ্যালুমিনিয়াম থাকতে পারে যা গর্ভাবস্থায় উপযুক্ত নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিত যাচাই না করে কোনো ঔষুধ গ্রহণ করা যাবে না। 

 উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করা-
ঔষুধ খাওয়ার পরও যদি অস্বস্তি না কমে বা বেড়ে যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন অথবা অতিরিক্ত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।[৯]

জেনে রাখা ভালো

সাধারণত বুক জ্বালাপোড়া বা হার্টবার্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি সমস্যা এবং এটি মায়ের জন্য অস্বস্তিকর হলেও ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রায় ৯৫% ক্ষেত্রে প্রসবের পর স্বাভাবিকভাবে এটি কমে যায়। তাই গর্ভাবস্থায় এমন